চার্চ অফ ম্যারাডোনা – যে ধর্মের ঈশ্বর স্বয়ং ম্যারাডোনা ।

পৃথিবীতে হাজারো ধর্ম আছে । ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ নিয়া গড়ে ওঠেছে এই ধর্মগুলো । কোন ধর্ম বিধাতাকে বিশ্বাস করে, আবার এমন অনেক ধর্ম আছে যারা স্রষ্টায় বিশ্বাস করে । কেউ মানেন অদৃশ্য স্রষ্টায় বা কেউ পশু-পাখিকে । একজন মানুষ কে মানেন এমন ধর্মও আছে পৃথিবীতে । প্রকৃতিতেও মেনে চলে এমন ধর্মও নেহাৎ কম নয় ।

নির্দিষ্ট কারো কথার উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে ধর্ম আবার নির্দিষ্ট কাউকে ভালোবেসেও তার অনুসারীরা তৈরী করে ধর্ম । কথা শুনলে পিলে চমকাবার মতো অবস্থা হলেও আসলে এমন ধর্ম আছে বেশ কতক ।

বিখ্যাত বক্তিদের ভক্তবৃন্দ থাকবে এইটাই স্বাভাবিক । সেই ভক্তদের একদল হবে মার-কাটারে টাইপ কেউ যদি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিছু বলে তাহলে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিবে, আরেকদল হবে শান্ত-শিষ্ঠ আলোচক, বিরুদ্ধ দলের যুক্তির বাহার খন্ডন করবে । গড়ে উঠবে দেশ জাতি ভেদে ভক্তদের সংগঠন । নানা নামে নানা মোড়কে গড়ে উঠবে এই সংগঠন বিভিন্ন কাজের ইচ্ছা আর লক্ষ্য থাকবে তাদের, এমনটাই হয় স্বাভাবিক সকল বিখ্যাত ব্যক্তিদের ভক্ত সমাজ । তবে তার বেশ ব্যতিক্রমও আছে বটে, বিখ্যাত ব্যক্তিদের উপরে ভিত্তি করে সেই বিখ্যাত ব্যক্তিকেই নিয়ে গড়ে উঠবে একটা ধর্ম বিষয়টা অস্বাভাবিক এবং বিদঘুটে ।
শুনতে যেমনই শোনাক না কেন এমনও ব্যতিক্রম অনুসারীর দলেরাও যে আছে তাদের সাথে পরিচিত হওয়া যাক । শুধু একটি দুটি নয় এমন বেশ কতগুলো ধর্ম আছে এই পৃথিবীতে ।

আমরা বিখ্যাত ব্যক্তিদের ভালোবেসে, তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে করি হাজারো কর্মকাণ্ড, কতক হয় ভালো – প্রশংসা কুড়ায় আর কতক হয় হাসিরপাত্র । এমন কিছুও করি আমরা যাকে এই ধাচে ফেলে বিচার করা যাবে না ।

ফুটবলের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় দুইজন একসাথে ।

বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় এর নাম যদি আপনাকে জ্বিজ্ঞেস করা, সম্ভবত নির্দ্ধিধায় বিনাবাক্যব্যয়ে আপনি বলে উঠবেন পেলে অথবা ম্যারাডোনা’র নাম তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই । তারা দুইজন ফুটবলে নিজ দেশের জন্যে যে কৃতিত্বের সাক্ষর রেখে গিয়েছেন তা অতুলনীয় । তাদের ফুটবলের কৌশল ছিল শিল্পের পর্যায়ে ।

প্রখ্যাত লেখক সুনীল গাঙ্গুলী তাঁর কোন এক লেখায় বলেছিলেন, ম্যারাডোনার খেলা না দেখলে তাঁর জানাই হতো না যে ফুটবল একটা শিল্প হতে পারে।

তাদের মধ্যে কে সেরা সেটা বিচারের দ্বায়িত্ব আপনার । তবে তাদের ভক্তবৃন্দের সংখ্যা যে কোন দিকেই কম ছিলো না এ কথা মানতেই হবে । প্রত্যেক দেশে রয়েছে তাদের ভক্তবৃন্দ। এখনও ফুটবলের কথা উঠলেই উঠে আসে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল এর নাম, এমন কী অনেকের কাছে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল বাদে অন্য কোন স্থানও পায় ফুটবল খেলোয়াড়ের দল  হিসেবে । সারাবিশ্বে তাদের দেশের এই পরিচিতি তৈরির পিছনে যে এই দুই কান্ডারির কৃতিত্বই যে বেশী তা আপনি আমি সবাই মানি । দুই দেশের সাথে লেখা আছে এই দুই নাম ।

ফুটবলের ঈশ্বরের গ্রাফিতি দেয়ালে একেছে ভক্তরা ।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় পেলের গ্রাফিতি একেছে ভক্তরা ।

তাদের ভক্তবৃন্দরা তাদের ভালোবেসে বানিয়েছে স্ট্যাচু, এঁকেছে গ্রাফিতি, নাম করেছে রাস্তার নাম, ছেলে-মেয়ের নাম রেখেছে মিল রেখে বা স্টেডিয়াম উৎসর্গও করেছে, তৈরী করেছে ক্লাব সংগঠন । তবে এত-শত সমর্থক গোষ্ঠীর পাশাপাশি ধর্ম গড়ে উঠলে বিষয় টা কেমন যেন দৃষ্টি কটুই দেখায় । দেখতে সে যাই হোক না কেন

ম্যারাডোনাকে বলা বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় এর পাশাপাশি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ উচ্ছৃঙ্খল খেলোয়াড়দের একজন । তার নামে অনেক কথা থাকলেও এতে যে তার ভক্তের হৃদয়ে সামান্য তম দোলা দিতে পারেনি তা তার ভক্তদের দিকে তাকালেই বোঝা যায় ।

ম্যারাডোনা চার্চের ভিতরে ঈশ্বররূপে ম্যারাডোনা ।

তার হাজারো ভক্তদের সংগঠন রয়েছে তবে তাদের মধ্যেই একটা এমন দল রয়েছে যারা গড়ে তুলেছে ধর্ম । সবাই সমর্থক সংগঠন তৈরি করলেও এরা করেছে সংগঠন । ধর্ম কী বললেই তৈরী হয় থাকতে হয় আইন, মানতে হয় বিধিনিষেধ থাকতে হবে নিজস্ব গ্রন্থ । এই ধর্মের কী আছে এই সব নাকি বলে কয়েই তৈরি করেছে এই সংগঠন । এই ধর্মের নাম “ইগলেসিয়া মারাদোনিয়ানা” ।

ইগলেসিয়া মারাদোনিয়ানা’র ধর্মীয় বিশ্বাসঃ

ম্যারাডোনা কে নিয়ে তৈরি কৃত এই ধর্মের নাম Iglesia maradoniana (ইগলেসিয়া মারাদোনিয়ানা) যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ম্যারাডোনা’র গির্জা । প্রতিটা ধর্মের যেমন নিজস্ব বিশ্বাস থাকে তাদেরও এমন বিশ্বাস আছে, আছে নিজস্ব সংস্কৃতি তবে তা অন্যের থেকে যদিও ধার করা ।
এই ধর্মের ধর্মানুসারিরা বিশ্বাস করে, দিয়েগো ম্যারাডোনা পৃথিবীর সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। আমরা পেলে বা মেসি, নেইমার, রোনালদো বা জালাতান কে সর্বকালের সেরা মনে করলেও এই ধর্মের লোকেরা মনে করে ম্যারাডোনাই পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবল খেলোয়াড় ।

চার্চে একদল সমর্থক ।

ধর্মের উৎপত্তিঃ

অক্টোবর ৩০ সালটা ১৯৯৮ ম্যারাডোনা তখন
কেবল মাত্র অবসরে এসেছেন, সারাবিশ্ব ব্যাপী তার নাম ডাক, বিশ্বের আনাচে কানাচে তৈরী হয়েছে লাখ লাখ ভক্ত বৃন্দ । ডাকা হচ্ছে ‘এ গোল্ডেন বয়’ অথবা ‘ফুটবলের ঈশ্বর’ নামেওও । খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে অবসর নিলেও সংখা কমেনি ভক্তের । তরুন টগবগে যুবক তখন ম্যারাডোনা । তার আটত্রিশ তম জন্মদিন সেদিন, আর্জেন্টিনার রোজারিওতে দিয়েগো মারাডোনা’র ৩৮তম জন্মদিনে তার তিন ভক্ত হেক্টর ক্যাম্পোমার, আলেহান্দ্রো ভেরনহার্নান আমেজ স্থাপন করলেন এক উপাসনালয় । সেই উপাসনালয়ের নাম দিলেন ‘হ্যান্ড অব গড’ বা ‘ঈশ্বরের হাত’ শুরু করলের এক ধর্মের । এই উপাসনালয় স্থাপনের মাধ্যমে সূচনা হলো এই ইগলেসিয়া মারাদোনিয়ানা’র । তৈরী হলো পৃথিবীতে আরো একটি নতুন ধর্ম যোগ হলো সেই ৪২০০ ধর্মের কাতারে ।

এই ধর্মের অনুসারীরা বলেন তাদের এই ধর্ম একধিক ধর্মের মতামতের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে তৈরী একটা ধর্ম, একাধিক ধর্মের সমন্বয় করে তৈরি হয়েছে এই ‘যৌগিক ধর্ম’ ইগলেসিয়া মারাদোনিয়া’র। এখন পর্যন্ত এই ধর্মকে একটি সম্মিলিত ধারার ধর্ম হিসেবেই দেখা হয়।

ম্যারাডোনার মূর্তিকে পূজা করেন তারা সেই মূর্তিকেই সম্মান জানানো হচ্ছে ।

কারা এই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাঃ

এই ধর্মের প্রবক্তা মোট তিনজন । এই তিনের অন্যতম হলেন আলেহান্দ্রো ভেরন, তার ভাষ্য মতে তিনি রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মের একজন যোগ্য অনুসারী, তবে তার হৃদয়ে তৈরি হওয়া সীমাহীন ভালোবাসা আর আবেগকে একটি ধর্মের দিকে বয়ে নিয়ে গেছে, আর তা হলো, দিয়েগো মারাডোনার । মারাডোনার প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা থেকেই ধারণা এসেছিলো এই ধর্মের, তৈরি করে এই ধর্ম।
আলেহান্দ্রো ভাইস কে দেওয়া এক ইন্টারভিউ তে বলেন

গির্জায় ম্যারাডোনা কে ঈশ্বরেরসম্মান জানানো হচ্ছে ।

ফুটবল আর্জেন্টিনায় ধর্মের মতো, আর প্রত্যেক ধর্মের একজন ঈশ্বর রয়েছেন, যেমন খ্রিষ্টানদের যিশু তেমনি তাদেরও ম্যারাডোনা ।

ধারণা করা হয়, সমগ্র বিশ্বব্যাপীই এইধর্মের অনুসারীরা আছেন । তবে আর্জেন্টিনা এবং মেক্সিকোতে তা তূলনামূলক খুবই বেশী । তাদের নিজস্ব সালও রয়েছে, রয়েছে গননা পদ্ধতিও, তারা মারাডোনার জন্মসাল (১৯৬০) হতে তারা তাদের নিজস্ব সালগণনা করেন । খ্রিষ্টাব্দের মতোই তারাও ম্যারাডোনাঅব্দ পালন করছে । খ্রিষ্টানদের বাইবেল এর মতো তাদেরও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ রয়েছে, ধর্ম গ্রন্থে যেমন ঈশ্বরের বানী লেখা থাকে, ঈশ্বর বলেছি কীনা সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না গেলেও তাদের ধর্ম গ্রন্থ কিন্তু তাদের ঈশ্বর স্বয়ং নিজেই লিখেছেন গ্রন্থখানা । সেই বিখ্যাত গ্রন্থটি ম্যারাডোনার আত্মজীবনী, যার নাম ‘আমি জনতার দিয়েগো’ । তাদের রয়েছে নিজস্ব ক্রিসমাস যা ম্যারাডোনার জন্মদিনে পালন করা হয় । ৩০ শে অক্টোবর প্রতি বছর তাদের ক্রিসমাস ।

ক্রিসমাস পালন করছে ম্যারাডোনার ভক্তরা ।
ইগলেসিয়া মারাদোনিয়ানা চার্চের সম্মুখভাগ ।
মেক্সিকোতে স্থাপিত ইগলেসিয়া মারাদোনিয়ানার চার্চ । একজন দর্শনার্থি বেরিয়ে যাচ্ছেন চার্চ

ইগলেসিয়া ম্যারাদোনিয়ানা’র রয়েছে প্রার্থনা সংগীত । যা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের শুরুতে গাওয়া হয়ে থাকে । তাদের রয়েছে নিজস্ব বিবাহ ব্যবস্থা । এবং কঠোর দশটি আইন । যা মানতেই হবে । তাদের নিজের নামের মধ্যে ডিয়েগো শব্দ ব্যবহার করতে হবে । কারো নাম যদি লিওলেন মেসি হয় তাহলে তার নাম হবে লিওলেন ডিয়েগো মেসি । এবং বাধ্যতামূলক ভাবে প্রথম সন্তানের নাম ডিয়েগো রাখতেই হবে ।

ম্যারাডোনার নিজস্ব ধর্ম বিশ্বাসঃ

যাকে নিয়ে এতো মাতামাতি, যাকে বসানো হয়েছে ঈশ্বরের স্থানে । সেই ম্যারাডোনা কিন্তু কখনই এই ধর্মে কখনই বিশ্বাসী ছিলেন না । তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ক্যাথলিক । উপাসনালয়ে নিয়মিত না হলেও অনিয়মিত আসা যাওয়া ছিলো । ধর্মের বিতর্ক নিয়ে তার বিখ্যাত উক্তিটি:

God makes me play well. That is why I always make the sign of the cross when I walk out onto the field. I feel I would be betraying Him if I didn’t.

“ঈশ্বরের কারণেই আমি ভালো খেলি । এজন্যই যখন আমি মাঠে যাই ক্রসের চিহ্ন সাথে রাখি । আমার অনুভব হয় এটা না রাখলে আমি ঈশ্বরের সাথে প্রতারণা করে ফেলবো ।”

ম্যারাডোনার হাত দিয়ে গোল দেওয়ার ইতিহাস তো সবাইই জানি আমরা । কীভাবে সুচতুর ভাবে সকলকে ফাঁকি দিয়ে তাৎক্ষণিক বুদ্ধির ভারে হাত দিয়েই দিলেন গোল । ম্যারাডোনার সবচেয়ে বিতর্কিত উক্তিটি ছিলো সেই প্রসঙ্গেই ।
১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাত দিয়ে গোল করার পর বলেন:

[I scored the goal] a little with the head of Maradona and a little with the hand of God.

“আমি গোল করেছি একটুখানি ম্যারাডোনার হাত ও একটুখানি ঈশ্বরের হাত দিয়ে”

ইগলেসিয়া ম্যারাদোনিয়া ধর্মের দশটি মূলনীতি যা তাদের সকল সদস্যদের কে বাধ্যতামূলক মানতেই হবেঃ

  • ১। ফুটবলকে কখনো ময়লা করা যাবে না।
    ২।ফুটবলকে যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসতে হবে।
    ৩।ম্যারাডোনা ও ফুটবলের প্রতি শর্তহীন ভালোবাসা প্রকাশ
    করতে হবে।
    ৪।আর্জেন্টিনার জার্সিকে প্রতিরক্ষা করতে হবে।
    ৫।ডিয়াগো ম্যারাডোনার অলৌকিক শক্তিকে সারা পৃথিবীতে
    প্রচার করতে হবে।
    ৬।মন্দিরগুলো যেখানে সে খেলেছে(ফুটবল স্টেডিয়াম) ও
    ম্যারাডোনার জার্সিকে সম্মান করতে হবে।
    ৭।ম্যারাডোনাকে কোনো দলের সদস্য দাবী করা যাবে না।
    ৮।চার্চ অফ ম্যারাডোনার মূলনীতি প্রচার করতে হবে।
    ৯।ডিয়াগোকে নিজের মধ্য নাম ও নিজের প্রথম ছেলের
    ডিয়াগো রাখতে হবে।
    ১০।বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা যাবে না ও নিজেকে
    অপ্রয়োজনীয় করে তোলা যাবে না।

পৃথিবীতে মোট ধর্ম রয়েছে চার হাজারেও বেশী । এক ধর্ম আরেক-ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছে, যুক্তি তর্ক খন্ডন করে যাচ্ছে নিয়মিত । কোথাও হাতাহাতি থেকে যুদ্ধ বিদ্রোহ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে । নিজের ধর্মকেই শ্রেষ্ঠত্ব প্র মানের মুকুট পড়াতে উঠে পড়ে লেগেছে । তাদের এই ধর্মেরও সমালোচনা হচ্ছে না যে তা না । তুলনামূলক কম হলেও তাদের এই ধর্মের সমালোচনা হচ্ছে । বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গুনীজনেরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এখন পর্যন্ত । তাদের বেশীরভাগেরই একই অভিযোগ ছিলো এই ধর্মের বিরুদ্ধে তা হলো,
দিয়েগো ম্যারাডোনা ছিলেন একজন উচ্ছৃঙ্খলতায় পরিপূর্ণ ও অনিয়ন্ত্রিত একজন মানুষ । তার জীবন যাপন ছিলো বিতর্কে পরিপূর্ণ । মাদকাসক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অভিযোগ নিয়েই কেটেছে যৌবন থেকে শেষ অবধি । এমন ব্যক্তি কখনই কোন আর্দশ মানুষ হতে পারে, তাকে অনুসরন করার মতো কিছুইই নেই । তাকে যেখানেই অনুসরণ করাই যেখানে বিতর্কিত সেখানে তাকে ঈশ্বরের স্থানে বসানোর মতো কোন যুক্তিতেই বিশ্বাস করা যায় না । তিনি ইশ্বরের মর্যাদা পাওয়ার উপযুক্ত নন। এই যুক্তিতে মারাদোনিয় গির্জা সমালোচিত হয়েছে, হচ্ছে তবে এমন সব আলোচনা-সমালোচনা যা ম্যারাডোনার প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা কমিয়ে দিচ্ছে না তা ঠিক । তারা ঠিকই নিজেদের কার্যক্রম নিয়মিত ভাবে পরিপূর্ণ করে যাচ্ছে ।

তথ্যসূত্রঃ

Wikipedia:
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Iglesia_Maradoniana
Vice Documentary:
https://youtu.be/knRo_1xrJ2A
Fifa:
https://youtu.be/AcNlMybIkRo
https://www.90min.com/posts/iglesia-maradoniana-the-religion-dedicated-to-diego-maradona
https://www.reuters.com/lifestyle/church-honor-maradona-opens-its-doors-mexico-2021-07-16/

© All rights Receive by Shadhu Mediacell 2018

হারেদি ইহুদী – ইসরাইলের ধ্বংস চায় যে ইহুদীরা

ইহুদী শব্দ টা শুনলেই আমাদের মাথায় যে বিষয় টা প্রথমে আসে তা হলো, একদল দখলদার সন্ত্রাসী বাহিনী । যারা অসহায় প্যালেস্টাইনিদের উপর নির্মম অত্যাচার চালাচ্ছে । ফিলিস্তিনিদের জায়গা দখল করছে । ইহুদী শব্দের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত এই দখলদারি পৈশাচিক শাসক গোষ্টি ঈসরাইল । ফিলিস্তিনি মানুষের উপর নির্দয়াচারন তাদের প্রতিনিয়ত আক্রমণ করা এবং শেষ গন্তব্য হত্যা ।
এই ইহুদীরা মাত্র কয়েক দশকে এমন অত্যাচারী ও দখলদারি হয়ে উঠেছে, যাদের কয়েক শতাব্দী আগেও কোন ভূখণ্ড ছিলো না, যারা ছিলো যাযাবর ।
সময়ের ব্যবধানে তারা হয়ে উঠেছে হিংস্র, বিষাক্ত এবং মানবতাহীন ।

সাধারণ ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলের দখলদার বাহিনীর অত্যাচার । ছবিঃ গুগল

ইয়াকুব (আঃ) ১২ বংশধরেদেরই একদল আজকেই এই ইহুদী । ইহুদী তাদের কৃতকর্মের জন্যে কখনই অনুশোচনা করে না । ইহুদি মূলত একটি জাতি বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠী যারা ইস্রায়েল জাতির অন্তর্গত এবং জাতিগতভাবে ইহুদি ধর্মের অনুসারী। ইব্রাহীম এর পুত্র ইসহাক, তার পুত্র যাকোব (ইয়াকুব) ওরফে ইসরাইল (ইস্রাঈল বা ইস্রায়েল) এর বংশধরগণ বনী ইসরাঈল নামে পরিচিত। সাধারণ ইহুদীদের পাশাপাশি ইহুদীদের আরেকটি সম্প্রদায়ের কথা প্রায়ই শোনা যায়, যারা নিজেরাই দখলদার সন্ত্রাসী ইহুদীদের বিষফোঁড়া তাদের নাম হারেদি ইহুদী ।

“পৃথিবী জানে ইজরায়েলের মূলভিত্তি জুডাইজম বা ইহুদি ধর্মমত নয় । ইজরায়েলের ভিত্তি হচ্ছে জায়োনিজম বা জায়নবাদ । জায়োনিস্টরা মনে করে ইহুদিদের একটি আলাদা রাষ্ট্র থাকবে। যে রাষ্ট্রে বসবাস করার অধিকার থাকবে বিশ্বের সকল প্রান্তের ইহুদিদের।”

অর্থোডক্স ইহুদীরা মনে করেন, যতদিন না মেসিয়াহ (ঈসা (আ.) আসছেন ততদিন ইহুদিদের জন্য আলাদা কোনো রাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই । যারা এই বিশ্বাস নিজেদের মধ্যে ধারণ করেন না তারা প্রকৃত ইহুদি ধর্ম থেকে সরে গেছেন বলে মনে করেন এই অর্থোডক্স ইহুদিরা, যারা হারেদি ইহুদী নামে অধিক পরিচিত ।

হারেদি সম্প্রদায় হলো ইহুদীদের একটি শাখা, যারা সেক্যুলার চিন্তা-চেতনা ও কথিত আধুনিকতার বিরোধীতা করে থাকে । তাদেরকে ক্ষেত্রবিশেষে গোঁড়ামীতে ভরপুর ও উগ্রপন্থি বলেও ডাকা হয়। কিন্তু অপরদিকে হারেদিরা নিজেদেরকে তাওরাতের প্রকৃত অনুসারী বলে মনে করে। তারা মনে করে বর্তমান দখলদারী ইহুদীরা মূল ইহুদী নয়, তারা তাওরাতের সঠিক অনুসারী নয় । মূল ইহুদী হারেদি ইহুদী এবং সঠিক তাওরাতের অনুসারী তারাই ।

ঈসরায়েল রাষ্ট্রের ম্যাপ ।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে যখন রাজনৈতিকভাবে জায়োনিজম প্রতিষ্ঠিত হয় তখন থেকেই এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন হারেদি ইহুদীদের রাবাইরা বা ধর্মগুরুরা । তারা মনে করেন সেক্যুলার জায়োনিস্টদের কারণে ইহুদিরা ধর্মচ্যুত হয়ে পড়বেন। সে কারণে গত শতাব্দির ত্রিশের দশকে অর্থোডক্স ইহুদীদের রাবাইরা ইউরোপে অবস্থানরত হারেদি ইহুদীদের ঈজরায়েল রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে ফিলিস্তিনে যেতে নিষেধ করেন ।

আন্দোলনরত হারেদি ইহুদী -১

ইসরাঈলের বেইত সিমেশ, নাহলোয়াতে এদের অধিক সংখ্যক মানুষ বসবাস করে । এছাড়া তারা সম্পুর্ণ বর্তমান ইসরাইল জুড়ে বিস্তৃত ।
হারেদি ইহুদীদের নির্দিষ্ট জনসংখ্যার সঠিক হিসেব পাওয়া কঠিন, কেননা তারা আধুনিক আদমশুমারিসহ রাষ্ট্রীয় এসব কার্যক্রম গুলোতে সহযোগিতা করে না । তারা আজকের দিনের গঠিত ঈসরাঈল রাষ্ট্রের চরম বিরোধিতা করে । তারা মনে করে এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে ঈসরাঈল রাষ্ট্র হিসেবে গঠিত হবার কোন অধিকারই রাখে না । এ তার বেশ বড় বড় কয়েকবার আন্দোলনও করেছে ।
তাদের স্লোগান হলো, “জুডাইজম ও জায়োনিজম এক নয় বরং বিপরীত”। তাদেরকে সাধারণ ইহুদীদের থেকে খালি চোখেই আলাদা করা যায় ।

“জুডাইজম ও জায়োনিজম এক নয় বরং বিপরীত”।
আন্দোলনরত হারেদি ইহুদী -২

জায়োনিজম বিরোধী বেশ কয়েকটি জিউস গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কট্টরপন্থী নাটুরেই কার্টা । ১৯৩৮ সালে অর্থোডক্স ইহুদী’রা এই সংগঠন গঠন করে । ১৯৪৮ সালে ইজরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা এর বিরোধিতা করে আসছে ।

আন্দোলন করছে নাটুরেই কার্টা সংগঠন এর সদস্যরা।

১৯৪৮ সালে ইজরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে নাটুরেই কার্টার সদস্যরা নাগরিকত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে । এমনকি তারা ঈজরায়েল সরকারকে কোনো কর দেন না এবং ঈজরায়েলের সেনাবাহিনীতেও যোগদান করে না । এই অর্থোডক্স ইহুদিরা ‘হিব্রুর’ পরিবর্তে ‘য়িদিশ’ ভাষায় কথা বলেন। আর প্রার্থনার সময় ব্যবহার করেন তাদের প্রাচীন পবিত্র ভাষা ‘ল্যাশন হা কোদেশ’। তারা এখনও ‘নকবা দিবসে’র দিন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইজরায়েলের দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদ করেন । তাদের মূলমন্ত্রই হচ্ছে

‘আ জিউস ইজ নট আ জায়োনিস্ট’অথচ আরবের কথিত মুসলিম নেতারা জায়োনিস্টদের বন্ধু হিসেবে সাদরে গ্রহণ করছেন বিনা দ্বিধায়, হয়ে যাচ্ছেন জায়োনিস্ট।

ঈসরাইলের বিরুদ্ধে ইহুদীরা ।

তারা ছবি উঠানো, সহ-শিক্ষা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার বিরোধী । হারেদিইহুদীগণ তাদের নিজেদের মত করে নিজেদের জীবন যাপন করে। তারা ঈসরাঈলে বাস করলেও ঈসরাঈলীদের সকল অনুশাসন মেনে নেয় না ।
তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও আইন আছে । তাদের সকল আইন ও সংস্কৃতি সব জনসম্মুখে পালন করে না, তার কারণ তাদেরই জ্ঞাতি ভাই দখলদার ঈসরাঈলি ।

দখলদারি ইহুদীদেএ সাথে সংঘর্ষে হারেদী ইহুদিরা ।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে হারেদিদের সাথে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠছে । সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চে সবচেয়ে বড় আন্দোলন হয়েছিলো এই দু-পক্ষের মাঝে এবং হতাহতও হয়েছিলো বেশ । ভাইস এর একটা ডকুমেন্টারি করাও হয়েছিলো এই বিষয় এ ।
ইসরাঈল রাষ্ট্র তাদের উপর বিভিন্ন আগ্রাসন মুলক নীতিরও প্রয়োগ করেছে এখন পর্যন্ত । তাদের জোর করে সেনাবাহিনীতে যোগাযোগ করানো, ধর্মীয় আচার রীতিনীতি অনুষ্ঠান পালনে বাধা ইত্যাদি ।

ঈসরায়েলে যাদের বয়স ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে তাদের বা আঠার বছরে পা দিয়েছে তাদের অধিকাংশকেই বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয় । কেউ যদি সেনাবাহিনী তে যোগ না দেয় তাহলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে । বর্তমান আইনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার করার সময় সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া থেকে রেহাই পাওয়ার আইন ছিল । তাই হারেদি ইহুদি যুবকরা তাদের যৌবনকালের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন ধর্মীয় পড়াশোনায়, যাতে করে তাদের সেনাবাহিনী তে যোগদান করতে না হয় ।

ঈসরায়েলের  হারেদি ইহুদিরা সেনাবাহিনীতে সদস্য নিয়োগ সংক্রান্ত একটি খসড়া আইনের বিরুদ্ধে  বিক্ষোভ করে । ওই খসড়ায়  ইহুদি যুবকদের বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে । সেই বিক্ষোভ বিশাল আকার ধারণ করলে তৎকালীন সরকার ব্যবস্থা তাদের কথা আমলে নিয়ে নতুন করে আইন সংশোধন করে ।

সেকুলার রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার বিরোধী এ জনগোষ্ঠীটির জন্মহার অত্যান্ত বেশি । সাধারণ ইহুদীদের তুলনায় এদের জন্মহার ব্যাপক পরিমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে । তাই গবেষকরা ধারণা করছে আগামী ২০৫০ সালের দিকে হারেদি ইহুদীরা ঈসরাঈলে এক-তৃতীয়াশে পরিনত হবে । হারেদি ইহুদীরা যে শুধু মাত্র ঈসলাঈলেই আছে এমন নয়, তাদেরকে যুক্তরাষ্টসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে স্বল্প পরিসরে দেখা যায় ।

Continue reading “হারেদি ইহুদী – ইসরাইলের ধ্বংস চায় যে ইহুদীরা”

‘হোয়াইট বেয়ার্ড’ বা ‘সাদা দাড়ি’ মুসলিমদের শক্তিশালী গুপ্ত সংগঠন ।

প্রত্যেক দেশেই গুপ্ত সংগঠন আছে । বিভিন্ন কারণ, রূপরেখা ও উদ্দেশ্য কে সামনে রেখে গড়ে উঠে এই সংগঠন । এই আধুনিক কালে এসেও গুপ্ত সংগঠন তৈরি হচ্ছে বা হয়েছে । বিভিন্ন নামে আমরা তাদের কে চিনি তাদের কার্যক্রম দেখলেও তারা কখনই সামনে আসে না । প্রাচীন কালেও এমন গুপ্ত সংগঠন নেহাৎ কম ছিল না তা ইতিহাসে পরখ করলেই বুঝা যায় ।
গড়ে উঠা এসব গুপ্ত সংগঠন গুলো কতক চলে নিজস্ব নিয়মকানুন এ, নিজস্ব পন্থায় । তারাই আইন তৈরীকারী নিজেদের, আবার কোন সংগঠন পরিচালিত হয় সে-দেশের বা সার্বভৌমত্বের নির্দেশে ।


গুপ্ত সংগঠন এর কথা বললেই প্রথমেই যেই নাম গুলো চোখের সামনে ভেসে আসে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
Bilderberg
Skull and Bones
The Illuminati
The Freemasons
The Knights Templar এর মতো শক্তিশালী গুপ্ত সংগঠন গুলোর নাম । বিভিন্ন রূপরেখা কে (নৈতিক ও অনৈতিক উদ্দেশ্য) সামনে রেখে গড়ে উঠেছিলো এই সংগঠন গুলো । এর কতক সংগঠন এর অস্তিত্ব এখনও টিকে আছে, আর বাকি শত শত সংগঠন কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে । হারিয়ে যাচ্ছে বলে এমন নতুন সংগঠন নেই যে এমন নয়, প্রতিনিয়ত এমন অনেক সংগঠন গড়েও উঠছে বিভিন্ন স্থানে । কিছু সংগঠন এর উদ্দেশ্য থাকে নির্দিষ্ট ভূখন্ড কে কেন্দ্র করে, আবার অনেকে কাটাতারের বেড়ার কথা ভূলে গিয়ে জগৎ নিয়ে কাজ করে সমস্ত পৃথিবীতে তাদের পদচারণা রেখে যায় । কোন কোন এমন সংগঠন গড়ে উঠে দেশকে শত্রু মুক্ত করতে, দেশতে নিরাপদ রাখতে । আবার কোন সংগঠন গড়ে উঠে ধর্ম কে বাচাঁতে, ধর্মের জন্যে তাদের জন্ম । যেমন প্রত্যেক টা দেশের একের অধিক এমন সংগঠন থাকে ঠিক বিশ্বের বেশীরভাগ বড় ধর্মেরও সম্ভবত এমন একটি করে হলেও সংগঠন আছে বা ছিলো তা হয়ত আমাদের সামনে আসছে বা লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যাচ্ছে ।


এমন একটি ধর্ম ভিত্তিক সংগঠনের নামই ‘দ্য হোয়াইট বেয়ার্ড’‘ বা ‘সাদা দাড়ি’ । এটি তৎকালীন মুসলিমদের অন্যতম শক্তিশালী গুপ্ত সংগঠন, এই সংগঠনের উসমানীয় সাম্রাজ্য গড়ে তোলার পিছনে বিশেষ ভূমিকা আছে বলে ইতিহাস দাবী করে । মুসলিমদের কে শত্রু মুক্ত ভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখতেই এই সংগঠন গঠিত হয় ।



জন্ম পূর্ব ইতিহাসঃ
ওগুজ তুর্কিদের মহাকাব্য নামে পরিচিত বিখ্যাত বই ‘Dede Korkut’ বইয়ে আকসালাস জাতির মধ্যে জ্ঞানী-বুদ্ধিমান ও সমস্যার সমাধান কর্তাকে ডেডে বা (আশিক)বলে ব্যক্তিকে সম্মোধন করতেন ।
বিখ্যাত ইহতাসবিদ ‘রাশিদ-আলদিন-হামদানি’ প্রমান করেন যে ‘ডেডে করকুত’ নামক একজন তুর্কি ছিলেন যাকে জ্ঞানের সমাহার বলা হতো । তিনি সপ্তদশ শতাব্দীতে বসবাস করতেন, সে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন এবং মুহাম্মদ (সা.) কাছে থেকে বিভিন্ন বিষয় এ জ্ঞান অর্জন করেন । একদিন হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর মুখে “অবশ্যই মুসলিমরা সেরা নেতা এবং সেরা সেনাবাহিনীর দ্বারা কনস্ট্যান্টিনোপলো জয় করবে” এই কথাটি শুনেন । এবং তখন থেকেই মনে মনে শপথ গ্রহণ করেন ও স্বপ্ন দেখেন কনস্টান্টিনোপলো জয়ের ।
মনের সেই সুপ্ত বাসনা ও নবী (সা.) এর কথায় তিনি উদ্দীপ্ত হোন ।

কনস্টান্টিনোপলো যুদ্ধের সময়ের চিত্র ।



আনুষ্ঠানিক কার্যঘোষনাঃ
করতুক‘ সাহেব যখন তার ওগুজ গোত্রে ফিরে আসেন তখন থেকেই তিনি এমন কিছু করার উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তা করেন, যা থেকে সমগ্র মুসলিমবাসী উপকারী হবেন পাশাপাশি কনস্টান্টিনোপলো বিজয়ে হস্তক্ষেপ রাখবেন । এমন চিন্তার পরিপেক্ষিতেই গড়ে উঠে মুসলমানদের শক্তিশালী গুপ্ত সংগঠন হোয়াইট ব্রেয়াড এর । তিনি ওগুজ শাসকের কাছে হযরত মোহাম্মদ সা.) এর থেকে শোনা কথাটি বলেন এবং তার চিন্তা টিও প্রকাশ করেন । ঠিক ঐ সময়েই আনুষ্ঠানিক ভাবে এই গুপ্ত সংগঠনটি গঠিত হয় এবং কার্যক্রম সম্প্রসারিত করে । প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে ওগুজ গোত্র ও তুর্কিস্তানের আশেপাশে কার্যক্রম থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় তা মুসলিম জাহানের মাঝে সম্প্রসারিত হয় । প্রথম দিকে ওগুজ নেতার নেতৃত্বে বে নির্বাচন হতেন যারা এই ‘সাড়া দাড়ি’ সংগঠন টি পরিচালিত করতেন ।


কার্যনীতিঃ
প্রথম দিকে এই সংগঠন এর নিজস্ব কোন পরিচালনা করা হতো না । তারা ওঘুজ বে এর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি’র মাধ্যমে পরিচালিত হতেন । বে’রা তাদের মধ্যে থেকে বুদ্ধিমান ও চৌকস লোক কে বাছাই করতেন যাদের কে ‘আল্পস’ নামে সম্মোধন করা হতো । তারা গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত হতেন । শত্রু ও বিদেশী বিভিন্ন দেশ এর কার্যক্রম এর বর্ণনা এনে দিতেন । অন্যদের কার্যক্রম এর গতিবিধি লক্ষ্য ও জানানোই ছিলো আল্পসদের প্রধান কাজ ।
দিন গড়ানোর পাশাপাশি কার্যক্রম এর পরিধিও বাড়তে থাকে হোয়াইট ব্রেয়াড এর । পৃথিবী বিখ্যাত অনেক মুসলিম বীর শাসক ও ছিলেন এই গুপ্ত সংগঠন এর সদস্য । জন্মসালের প্রথম শতাব্দীর দিকে তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহন ও করতেন । তারপরবর্তীতে তথ্য আদান প্রদান কে প্রধান কাজ মেনে সামনে আগান । ককেশাস, মধ্য এশিয়া, খোরাসান এর সাথে যুদ্ধে তাদের ব্যাপক সদস্য নিহত হন । তাই তারা তাদের রক্ষার্থে নিজেরা নিজেদের ভবন নির্মাণ করেন ।
যুদ্ধ শেষ এ তাদের সাইন (লোগো) সংবলিত বিভিন্ন ভবন এর দেখা পাওয়া যায়, যার বেশ কয়েক এর অস্তিত্ব এখনও বিদ্যমান । সেই দশম শতাব্দিতে তাদের কার্যক্রম ব্যাপক পরিসরে বিস্তৃত হয় ।


বিখ্যাত টিভি সিরিজ ‘দিরিলিস আরতুগুল’ এ এই সংগঠন এর কথা বলা আছে এবং এই সিরিজের নায়ক আরতুগুল নিজেও এই সংগঠন এর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন । এই আরতুগুলই ছিলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা উসমানের পিতা । এছাড়াও জগৎ বিখ্যাত বীর সালাউদ্দীন আইয়ুবীকে নিয়ে লেখা বই ‘দ্য বুক অফ সালাদিন’ এ এই সংগঠন এর অস্তিত্ব পাওয়া যায় । ‘পায়িয়াথ আবদুল হামীদ’ নামক সুলতাম দ্বিতীয় আবদুল হামীদ এর জীবনী নিয়ে নির্মিত নাটকেও এই সংগঠন এর কথা বলা হয় ।

বিখ্যাত টিভি সিরিজ গুলোতে হোয়াইট ব্রেয়াড এর লোগো ।


সফলতাঃ
উসমানীয় সাম্রাজ্যের স্থপতি ‘উসমান গাজী’ ও এই সংগঠন এর সাথে ছিলেন । ইতিহাস বিদরা মনে করেন উসমানীয় সামাজ্র প্রতিষ্ঠার পিছনে হোয়াইট ব্রেয়াড এর তাৎপর্যপূর্ণ ভূনিকা রয়েছে । তাদের মূল লক্ষ্য ছিল কনস্টান্টিনোপলো বিজয় । তারা তাতে সফল হয়েছিলো, কিন্তু এর জন্যে করতে হয়েছে বহু ত্যাগ, অপেক্ষা করতে হয়েছে কয়েক শতাব্দী ।
‘উসমানীয়’ রাজা ‘সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ’ ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন, তারা রাজাকে সব রকম তথ্য ও বিচক্ষণশীল বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করতেন । মুসলমানরা এই যুদ্ধে জয়লাভ করে । এবং এরই মধ্য দিয়ে গুপ্ত সংগঠন হোয়াইট ব্রেয়াড এর মূল লক্ষ্য হাসিল হয় । নবীজী ভবিষ্যৎ বানীও বাস্তবিত হয় ।

যুদ্ধ জয় শেষ এ সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ । ছবিঃ ফরাসি


সমাপ্তিঃ
হোয়াইট বেয়ার্ড সংগঠন ঠিক কবে থেকে কার্যক্রম শুরু করেন তার যেমন কোন নির্দিষ্ট তারিখ সময় পাওয়া যায় নি, ঠিক তেমনি এর কার্যক্রম সর্বশেষ কোথায় শেষ হয় তাও বলা যায় না । গুপ্ত সংগঠন এর কোন নির্দিষ্ট তথ্য থাকবে না তাই স্বাভাবিক । তবে ইতিহাসবিদরা ধারণা করেন যে ‘সুলতান মেহমেদ’ কনস্টান্টিনোপলো বিজয় করার পরে, যখন মুসলিমরা মসনদে বসেন । হোয়াইট ব্রেয়াড এর উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার পর পরই তাদের কার্যক্রম ইতি টানা হয় বলে ধারণা করেন । মুসলিমদের বিজয়ের পরেই তারা তাদের কার্যক্রম গোছানো তে হাত দেন, এবং কিছু বছর এর মধ্যেই সংগঠন এর সমাপ্তি ঘোষনা করেন । দ্বাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে এই সংগঠন তাদের কার্যক্রম সম্পুর্ণ রূপে সমাপ্তি ঘোষনা করেন বলে ইতিহাস ধারণা করেন ।



উসমানীয় সাম্রাজ্যের ‘সুলতান আবদুল হামীদ’ তার শাসনামলে এরূপ সংগঠন এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন । তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়েছিলেন এমন একটি সংগঠন এর । কিন্তু তা সম্ভবপর হয়ে উঠে নি । সঠিক কাজের জন্যে যোগ্য লোকদের খুজে পাননি এবং শত্রুদেশীয় হস্তক্ষেপ এই কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাই আর এই সংগঠন সফলতার মুখ দেখেনি ।


মুসলিমরাও ছিলেন বিদ্যা বুদ্ধি জ্ঞানতাপস মানুষ ছিলেন ।
যেমন ছিলেন শক্তিমান যোদ্ধা তেমনই সাহিত্যের কাল পুরুষ । এমনও হাজারো সোনালী ইতিহাস রয়েছে মুসলিমদের যা আজ হলুদ মিডিয়ার কারণে সম্মুখে আসে না, আমরা জানতেও পারি না আমাদের সেই সব সোনালী ইতিহাস ।
এমন শত শত ইতিহাস পশ্চিমাদর কারণে আজ কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, যতটুকু আছে তাও হারাবার অপেক্ষায় । এরপরেও যদি একটু-আধটু বেচে থাকে তাহল তা তাদের মন মতো করে গড়ে তুলছে নিজস্ব ধাচেঁ তা আমাদের সামনে তুলে ধরতে । আমাদের নিজেদের ইতিহাস নিজেদেরকেই স্ব-সম্মানে বাচিঁয়ে রাখতে হবে । পরবর্তী প্রজন্মের দ্বারে পৌছে দেওয়ার দ্বায়িত্ব আপনারই ।



Copyright: © All Rights Receive 2018

তথ্যসূত্র
Heyet in Wikipedia https://historicales.com/who-were-white-beards-or-heyet-secret-organization/
Dirilis Ertugul ( season 3-4)
Payihath abdul Hamid
The Book Of Salauddin
Oghuj bee’s Story by TRT
View From History by TRT WORLD
https://g.co/kgs/FMo1bw
মুহাম্মাদ ফাতিহ
https://g.co/kgs/aRhTtQ
Book of Dede Korkut
https://g.co/kgs/gnDcdw
রাশিদ আলদিন হামদানীঃ https://en.m.wikipedia.org/wiki/Rashid_al-Din_Hamadani

Continue reading “‘হোয়াইট বেয়ার্ড’ বা ‘সাদা দাড়ি’ মুসলিমদের শক্তিশালী গুপ্ত সংগঠন ।”

আমি এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে আছি এ আমার অহংকার ।

সামনে মাঠে থেকে জমিদার বাড়ি

আমি এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে আছি
এ আমার অহংকার !

সম্ভবত  এই  কথাই  বলছে  ব্রিটিশ  আমলের  তৈরি  এই  জরাজীর্ণ,  নিশ্চিহ্ন  হয়ে  যাবার  অপেক্ষায়  থাকা  বিল্ডিং  টি   ।
১৮৯০ সালে টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী এই জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করেন । তার পূর্ববর্তী বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবার পরে । ৩০ একরের উপরে নির্মান করা হয় বর্তমান বাড়ি (মতান্তরে ৬০ একর) ।

জমিদার বাড়ির সামনে একজন পর্যটক


অনিন্দ্য সুন্দর জমিদার বাড়িটির অন্য নাম পরীর দালান । রাজবাড়ির উপর নির্মিত দুইটি রাজসিক পরীর ভাস্কর্যের কারণেই মূলত এই দালানের নাম হয় এঞ্জেল হাউজ বা পরীর দালান । যখন থেকে রাজবাড়ীটি নির্মিত হয়েছে ঠিক তখন থেকে লোকমুখে রাজবাড়ির নামটি পরীর দালান হিসেবে প্রচলিত ।



জমিদারবাড়ির মূল ভবনটি বর্তমানে হেমনগর ডিগ্রী কলেজের প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে তবে এখানকার পেছনদিকে অবস্থিত ভবনটি বর্তমানে খালি পড়ে আছে । জমিদারবাড়ির অভ্যন্তরে প্রায় ২৫টি কক্ষ আছে ।

অন্দরমহলের থেকে পিছনের দিকে



জমিদারবাড়ির সামনের দিকটি সবচেয়ে দৃষ্টি নন্দন । রঙ্গিন কাচ দিয়ে ভবনের দেয়ালে নকশা করা হয়েছে । জমিদারবাড়ির দেয়াল, পিলার, ফটকের প্রতিটি ইঞ্চিতে রঙ্গিন কাঁচ ব্যবহার করে ফুল, তারা, গাছ ইত্যাদি সৃষ্টি করা হয়েছে । স্থাপনাটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এর চিনি টিকরী অলংকরণ, যার মাধ্যমে বৈদেশিক পদ্ধতিতে স্থাপত্যের গায়ে চিনামাটির বাসন কোসনের ছোট ভগ্নাংশ ও কাঁচের টুকরা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের নকশা ফুটিয়ে তোলা হয় । চিনি টিকরীর কাজে রঙিন কাচের ব্যবহারের বিষয়টি নজরকাঁড়া । এমনকি এর পিলারগুলোতে ও সাদা কালো রঙের ফ্লোরাল চিনি টিকরীর কারুকার্য দেখতে পাওয়া যায় ।



উঁচু ও প্রসস্থ দেওয়ালে ঘেরা বাড়ির ভেতরে সুপেয় পানির জন্য একাধিক কূপ খনন করা হয়েছিল । সেখানে ছিল চিড়িয়াখানা, পূজাম-প, হাতিশালা ও ফুলের বাগান । পরীর দালানের সামনেই ছিল দ্বিতল নাটঘর । বাড়িটির ভেতরে ও সামনে রয়েছে পাকা সান বাঁধানো ঘাটসহ , বিশাল পুকুর ।

এখন কালের পরিক্রমায় মাত্র একটি পুকুরই রয়েছে



জমিদার তার এলাকার মানুষকে কঠোর হাতে শাসন করতেন এবং তাঁদের কিছু নিয়ম মানতে বাধ্য করা হত যেমনঃ কাউকে জমিদারবাড়ির মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করতে হলে তাঁকে খালি পায়ে ক্রমাগত মাথা ঝুঁকিয়ে আনুগত্য প্রকাশের পাশাপাশি উল্টো হয়ে হাটতে হত এবং এ কারনে স্থানীয়দের মনে জমিদারের উপর চরম ক্ষোভ ও ঘৃণার সৃষ্টি হয় । এই ঘৃণা এবং অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে জমিদার দেশবিভাগের সময় জমিদারবাড়ি থেকে পালিয়ে যান ।


মূল জমিদারবাড়ির পাশাপাশি এখানে সাতটি বিশালাকারের পুকুর ছিল যেগুলোর মধ্যে মাত্র ১টি বর্তমানে টিকে রয়েছে । স্থানীয়রা বলে থাকে যে সাতটি পুকুর ছিল জমিদারের সাত ছেলে মেয়ের জন্য । ধনবাড়ি জমিদারবাড়ি এখান থেকে বেশ নিকটে অবস্থিত ।


১৯৭১ সালে হেমনগর পরী দালান ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি । এখান থেকেই কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধারা পাকিস্তানী হানাদার ও বর্বর বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ।


বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসকে বহন করে । তাই নিদর্শনগুলো পরিচর্যা করা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ এবং এই দেশের প্রতিটি জনগণের দায়িত্ব । বাংলাদেশের যে ক’টি জমিদার দালান রয়েছে তার মধ্যে খুব ভালো অবস্থায় আছে হেমনগর জমিদারবাড়িটি । জমিদারবাড়িটি ডিগ্রী কলেজের তত্ত্বাবধানে থাকায় বহু কালের পুরনো ইতিহাস নির্বিচারে ধ্বংসের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেয়েছে । উপমহাদেশের বেশিরভাগ স্থাপনাই তার স্থাপত্যশৈলীর কারণে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাই স্থাপনাগুলো বিলীন হওয়ার পূর্বে, সেগুলোর ইতিহাস সংরক্ষণ করা, জনসাধারণের কাছে সরবরাহ করা এবং তা নিজ স্বচক্ষে দেখে আসা, আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব । আসুন ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করি এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি ।

জমিদার বাড়ির সম্মুখে তোলা ৩৬০° ছবি ।
জমিদার বাড়ির অন্দরমহলের ৩৬০° ছবি ।

Copyright: © Photos All Rights Receive 2018

দর্শনীয় স্থানে ভ্রমনের সময়ে সে স্থান গুলো যথাযথ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করবেন । ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান সমূহ রক্ষনাবেক্ষন করা আপনার আমার দ্বায়িত্ব যাতে করে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা যায় ।

আবার কোন এক বিখ্যাত স্থানের কথা শুনাবো আরেকদিন ।

https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0_%E0%A6%9A%E0%A7%8C%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%80

http://offroadbangladesh.com/bangla/places/hemnagar-zamindar-bari/

https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%B0_%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF

https://g.co/kgs/dvsypy

Continue reading “আমি এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে আছি এ আমার অহংকার ।”

‘কারণ’ খুঁজে সহজেই কীভাবে নতুন কোন অভ্যাস গঠন করা যায় ?

আপনি কী নতুন অভ্যাস তৈরি করতে ‘প্রতিজ্ঞাবদ্ধ’ নাকি ‘শুধু আগ্রহী’  ?

যারা সবসময় নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারা প্রায়শই বেশকিছু  প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে থাকেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি “কীভাবে নিয়মিত ব্যায়াম করেন,সবসময় এতো উৎফুল্লতা নিয়ে ব্যায়াম কীভাবে করেন” ?
এবং বেশীরভাগ সময়ই উত্তর হয় ‘আমি করি না’।

যিনি  ব্যায়াম  করেন  তিনি  জানেন  উৎফুল্লতা  ক্ষনস্থায়ী  । কেন নিজেকে  মজার  সময়  উপহার  বা  কোন  প্রতিযোগিতায়  অংশগ্রহণ  করানোর জন্যে  ব্যায়াম  করেন  না  ?

অভ্যাস গড়ে তোলা একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া

উদ্দীপনাউৎসাহউৎফুল্লতা  কখনই  আপনা-আপনি  চলে  আসে  না । এইগুন গুলো একটা ফল গাছের মতো, চাইলেই ফল পাবেন  না  । এরজন্য আপনাকে চারা রোপণ করে পানি, বেড়া, রোদ  দিয়ে অপেক্ষা করতে হবে গাছ বড় হবে তারপরই আপনি আপনার কাঙ্খিত ফলাফল পাবেন । যেকোন অভ্যাস নিজের আয়ত্বে আনার জন্যে, যেকোন শৃঙ্খলতার শিকলে নিজেকে বন্দি করতে চাইলে আগে জানতে হবে ‘কেন‘ করতে চাইছেন এমন ? ‘কী কারণ‘ এ বরণ করবেন শৃঙ্খলা পূর্ণ জীবন ।

নিজেকে সুশৃঙ্খল ভাবে গড়ে তুলতে, কোন কাজে বা কোন অভ্যাসে নিজের জীবন পরিচালিত করতে আপনার প্রথমেই জানা জরুরি আপনি ‘কী কারণে‘ বা ‘কেন‘ করবেন ?
এই নতুন অভ্যাস টা কেন আপনার জীবন পরিচালনায় দরকার । এই ‘কেন‘ এর উত্তরই আপনাকে গড়ে তুলবে নতুন অভ্যাস সম্পর্কে  একজন সাধারণ ‘শুধু আগ্রহী ব্যক্তি থেকে – চরম উদ্দিপনাময়, উৎসাহি, উৎফুল্লতায় পরিপূর্ণ একজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মানুষ এ । পার্থক্যের দেয়াল গড়ে তুলবে ‘আগ্রহী ব্যক্তি ও ‘প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মানুষ‘ এর মাঝে । তাই ‘কারণ’  বা ‘কেন’ এর উত্তর জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

কারণ খোঁজা কেন গুরুত্বপূর্ণ

স্টেফ মারফি নামক এক মানচেস্টারের গবেষক ইউকে টুডে কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন
” আপনি ‘কেন করবেন’ এটি বোঝার দরুন আপনি জানতে পারবেন নিজের প্রতি কতটা বিশ্বাসী ব্যক্তি, এবং আরো এই যে আপনার এই নতুন অভ্যাস তৈরির জন্যে যে অনিশ্চিত সমস্যার মুখোমুখি হবেন তা মোকাবেলা করতে কতটা সক্ষম তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে ।”

মনোবিজ্ঞানী ড. জোসেফাইন পেরি তার লেখা The 10 Pillars Of Success’ বইয়ে বলেছেন ” উদ্দেশ্য বা কারণ হলো আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্যে যেই জিনিস গুলো দরকার তারমধ্যে অন্যতম” ।
অন্যভাবে বললে ‘উদ্দ্যেশ হচ্ছে লক্ষ্য অর্জনের স্তম্ভগুলোর গুরুত্বপূর্ণ একটি ।’

    উদ্দেশ্য নির্বাচন করুন । ছবিঃ গুগল

    উদ্দেশ্য তিনটি উপাদান নিয়ে গঠিত;
    প্রথম যেদিকে এই উদ্দেশ্য আমাদের ধাবিত করে ।
    দ্বিতীয় বৃহত্তর বিশ্বে এই ‘উদ্দেশ্যের কারণে’ কী অবদান রাখবে এবং সর্বশেষ ধারাবাহিকভাবে একই ভাবে নতুন আচরণ করা, নতুন অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া । 

    এই কারণ খুঁজে বের করা আপনার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে এক ধরনের যোগান বস্তু হিসেবে কাজ করে । যা আপনাকে উদ্দেশ্য পূরণের খাতিরে সাহায্য করে ।

    স্টেফ মারফি আরো বলেন
    “যারা তাদের শক্তিশালী উদ্দেশ্য তৈরী বা ‘কারণ’ খুজে বের করে ফেলেছে প্রাত্যহিক জীবনে কোন নতুন অভ্যাস তৈরির জন্যে তারা, নিজেদের মনকে নিয়ন্ত্রণ  করতে পারেন এই কাজ করার জন্যে । এবং কীভাবে মানসিক যন্ত্রনা ও অবসাদগ্রস্থতা থেকে বেরিয়ে আসা যায় তা তারা নিজেরাই আবিষ্কার করে ফেলেন ।”

    পুরনো অভ্যাস কে ঝেড়ে ফেলে নতুন অভ্যাস অভ্যস্ত হওয়া সহজ নয় ভাবনার মতো ।

    নতুন কোন অভ্যাসে অভ্যস্ত হতে জীবনে,
    আমাদের সেই অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়া ‘কেন‘  অত্যাবশকীয় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে নিজেদের প্রতি বিশ্বাসী করে ও অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকে । এই ‘কারণআমাদের নিজে নিজেকে দেওয়া সমস্ত অযথা অজুহাতের উপরে স্থান দখল করে; ‘আজকের সকালটা খুব ঠান্ডা, আজকে রাতে আরেকটু জেগে থাকি, সকালে আজকে আর না উঠি, আরেকটু বেশী খেলে কিছু হবে না, আজকে আর পড়াশোনা করবো না ইত্যাদি’র মতো দেওয়া অজুহাতকে পরাস্ত করে আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত নতুন অভ্যাস গড়তে সাহায্য করে ।
    যদি শক্তিশালী একটা কারণ খুজে পাই তাহলে আমরা অজুহাত শোনার পরেও আমাদের নতুন অভ্যাস গঠনে মনোযোগ দেই ।

    ব্যায়ামের অভ্যাস গড়তে সঠিক শক্তিশালী ‘কারণ’ খুজে পাবেন ?

    ব্যায়াম করার জন্যে কারণ খুজে বের করুন । ব্যায়াম এখানে একটি উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে । ছবিঃ পিন্টারেস্ট

    এতো কথা বলার পরে মনে হতেই পারে  কীভাবে আমি আমার একটা ‘শক্তিশালী কারণ‘ খুজে বের করবো যেকোন নতুন অভ্যাস গঠনে ?

    প্রত্যেকেরই ব্যায়াম করার কারণ আলাদা । কেউ হাসি খুশি থাকতে ব্যায়াম করেন, কেউবা ব্যায়াম করেন নিছক শখের বসে অথবা অন্য কেউ একজন সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে । ব্যায়াম করার কারণ আলাদা আলাদা হওয়াই উচিৎ, সকলেরই ব্যক্তিগত মতামত থাকা জরুরী ব্যায়াম করা প্রসঙ্গে আমি মনে করি । যার যার ব্যক্তিগত বিকাশ সাধিত হবে ব্যায়ামের মাধ্যমে ।

    কার্লি রওনেয়া,
    যিনি ‘Wellness App Movement‘ এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি মেট্রো ইউকে নামক এক পত্রিকায় বলেন-
    একটি কার্যকরী দুর্দান্ত ব্যায়াম হলো আপনার মাথায় আসা প্রথম লক্ষ্যটি লিখে রাখা [যখন আপনি চিন্তা করেন ব্যায়াম করা সম্পর্কে]”

    আপনার প্রথম ‘কারণ’ সম্পর্কে কখনই ভূলে যাবেন না । কেন  আপনি ব্যায়াম করা শুরু করেছেন এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে গ্রহনকৃত প্রথম উত্তর টিই হলো আপনার প্রথম ‘কারণ’ ।

    যদি আপনার ‘কারণ’ হয় নতুন ভাবে নতুন বছরের জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করবেন । তাহলে নিজেকে জ্বিজ্ঞেস করুন কেন অন্য সব কারণ থাকতেও এই কারণ টিই বেছে নিলেন ?

    যদি আপনি নির্দিষ্ট কারো কাছে নিজেকে আরো আবেদনময়ী করে তুলতে চান,  বা নির্দিষ্ট কোন উৎসব অথবা অনুষ্টানের  জন্যে ব্যায়াম করা শুরু করেন তাহলে আপনি নিজেকে আবারও প্রশ্ন করুন, এখনও আসল উত্তর টি খুঁজে পাননি ।

    সবচেয়ে সঠিক কারণ টি জানার জন্যে দরকার হচ্ছে নিজেকে বারংবার প্রশ্নের সম্মুখীন করা, নিজেকে জানা ।
    কেন আপনি ব্যায়াম করবেন ?

    কার্লি আবারও বলেন “আপনার আসল কারণ না খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত আপনি নিজেকে জ্বিজ্ঞেস করতেই থাকুন”।

    আপনি কয়েক বার নিজেকে এমন প্রশ্ন করুন, যতক্ষন না মনে হয় হ্যাঁ এটিই সেই উত্তর যা আমি আশা করছিলাম । যার কারণে আমি নিয়মিত ব্যায়াম করবো । নিজের কথার উপরে বিশ্বাস আসলে এবার প্রশ্ন করা বন্ধ করুন ।

    বারংবার প্রশ্ন করুক । ছবিঃ শাটারস্টক

    নতুন অভ্যাস গঠনের ‘কারণ’ খুঁজতে যে প্রশ্নগুলো নিজেকে করতে পারেনঃ

    • এই নতুন অভ্যাস গঠন করে কী কোন উপকার হবে ?
    • কার জন্যে এটা করছেন ?
    • কখন মনে করবেন যে আপনি  সফল হয়েছেন?
    • আপনি পুরনো জীবনে/অভ্যাসহীন ভাবে যা আছেন তাই কী সুন্দর বা ভালো নতুন অভ্যাস গড়ার পরবর্তী আপনার সাথে মিলিয়ে দেখুন কল্পনায় অথবা অন্যভাবে  ।
    • এবং সবচেয়ে জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ হলো বারংবার চিন্তা করা ।

    চটপট ভাবনা গুলো লিখে ফেলুন ।

    একটি কাগজে চটপট লিখে ফেলুন প্রধান প্রধান কারণ গুলো এটি কী হতে পারে ? কীভাবে কাজ করবে ?  কীভাবে আপনার ইত্যাদি ইত্যাদি,  পুনরায় আবার লিখুন যতক্ষন না   আপনার ভাবনা গুলো একই রকমের । আপনার নিজস্ব ডাইরিতে বা নোট খাতায় লিখুন এই নতুন অভ্যাস সম্পর্কে যা জানেন তা । কেন অভ্যস্ত হবেন ? কোথায় হতে শুনেছেন এই  অভ্যাসের কথা ? কীভাবে কাজ করে এই অভ্যাস ? মনে করেন আপনি আপনি ৮০ বছর বয়সে আরামদায়ক কেদারায় বসে প্রহর গুনছেন, তখনকার জীবনে কী এই নতুন অভ্যাস কোন প্রতিফলন ঘটাতে পারবে কী ? এবং সর্বশেষ যেই বিষয় এ অভ্যাস গড়তে চান সেই বিষয় এ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির থেকে উপদেশ নিন ।

    সর্বোপরি যখন আপনি আপনার নতুন অভ্যাস তৈরির করার সাধনা শুরু করে দিয়েছেন । আপনার কতটুকু অগ্রগতি হলো তা জানার জন্যে বিভিন্ন উপায়ে নিজেকে পরিক্ষা করবেন প্রায়শই ।

    যখন খুঁজে পেয়ে যাবেন আপনার সেই আসল ‘কারণ‘,  তখন নিজের গন্তব্যের প্রতি সচেষ্ট থাকাটা জরুরী । দুই পা এগিয়ে এক পা পিছনে আসা যাবে না । এগিয়েই যেতে হবে, তাহলেই আমরা নতুন কিছু শিখতে পারবো, নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবো । জীবন হবে সুখী ও সমৃদ্ধময় ।

    বিঃদ্রঃ এখানে ব্যায়াম কে একটি উপমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, নতুন অভ্যাস গঠনের পরিপেক্ষিতে ।

    তথ্য সুত্রঃ https://metro.co.uk/lifestyle/health/
    The Ten Pillars of Success: https://g.co/kgs/VW6Gxr :What if : nutshell : ted

    Continue reading “‘কারণ’ খুঁজে সহজেই কীভাবে নতুন কোন অভ্যাস গঠন করা যায় ?”
    Design a site like this with WordPress.com
    Get started